TheBangladeshTime

ভোলার হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন

2026-03-04 - 10:24

ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে নেই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন। বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও রয়েছে এর তীব্র সংকট। এতে দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষ। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন রোগীরা। কেউ এসেছেন কুকুরের কামড়ে শিকার হয়ে, আবার কেউ এসেছেন বিড়ালের আঁচড়ে শিকার হয়ে। রোগীদের মধ্যে শিশুসহ নানা বয়সী নারী ও পুরুষ রয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালে মিলছে না ভ্যাকসিন। এমনকি বাজারের ফার্মেসিগুলোতেও সচরাচর মিলছে না ভ্যাকসিন। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ রোগী ও স্বজনদের। দৌলতখান উপজেলা থেকে আসা রোগী মাইনুর আক্তার জানান, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় একটি কুকুর কামড় দেয়। পরে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন দিতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি। এরপর ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও এসে পাননি ভ্যাকসিন। এখানকার নার্স ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। তাই বাইরে থেকে কিনে আনলে তারা ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারবেন। বাজার থেকে ভ্যাকসিন কিনতে পারলে তো এখানে আসার দরকার ছিল না। বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসা রোগীর স্বজন মো. ফিরোজ আলম জানান, তার শিশু সন্তানকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছে। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা ভ্যাকসিন না থাকায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। তিনি সদর হাসপাতালে আসলেও এখানেও ভ্যাকসিন পাননি। তিনি জানান, এত দূর থেকে এসেও ভ্যাকসিন পাননি। সরকারি হাসপাতালে যদি ভ্যাকসিন না থাকে, তাহলে গরিবের চিকিৎসা হয় কীভাবে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট থেকে আসা রোগীর স্বজন জানান, সন্তানকে কুকুরে কামড় দেওয়ার পর ভ্যাকসিন দেওয়াতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন নেই। পরে বাধ্য হয়ে চারজন মিলে টাকা তুলে একটি ভ্যাকসিন কিনেছি। ওই ভ্যাকসিন দিয়ে বাড়ি ফিরছি। আরেক রোগীর স্বজন লিমা আক্তার জানান, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে ভোলার শহরের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করে তারপর ভ্যাকসিন পেয়েছেন। ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন সচরাচর পাওয়া যায় না। এ অবস্থায় আমাদের অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ভোলার শহরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. হারুন অর রশিদ জানান, ভোলার শহর থেকে গ্রাম—সব রাস্তা ও বাড়ির আশপাশে বর্তমানে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। সঙ্গে কুকুরের আক্রমণও বেড়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ভোলা সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেই। এমনকি ভোলার ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো দ্রুত যেন এ সমস্যার সমাধান করেন। ভোলা সদর রোডের ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. আরিফ ও মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিগত দুই মাস ধরে কোম্পানিগুলো আমাদের ভ্যাকসিন চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছে না। আমাদের দৈনিক প্রয়োজন ৫০টি, সেখানে আমাদের সপ্তাহে দেয় ১০-২০টি। তাই আমরাও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারছি না। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, দুই মাস ধরে ভ্যাকসিন নেই। এতে রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এছাড়াও বাজারেও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। তাই সবাইকে কুকুর ও বিড়াল থেকে সাবধানে থাকার পাশাপাশি আঁচড় বা কামড় দিলে অন্তত ৩০ মিনিট সাবান-পানিতে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। জুয়েল সাহা বিকাশ/আরএইচ/এএসএম

Share this post: