ডাবের দাম চাওয়ায় বিক্রেতাকে হুমকির অভিযোগ সার্জেন্টের বিরুদ্ধে
2026-03-29 - 04:40
মাদারীপুরে ডাবের দাম কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বিক্রেতার ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন এক সার্জেন্ট। পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই ডাব বিক্রেতাকে ডেকে নেওয়া হয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিমকে ভাড়া বাসা থেকে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ ডেকে নিয়ে যান মাদারীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। ভুক্তভোগী ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিম বেপারী মাদারীপুর শহরের সরদার কলোনী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার রশিদ বেপারীর ছেলে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার (২৭ মার্চ) মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে শকুনি লেকের পাশে ডাব বিক্রি করেন আব্দুল করিম বেপারী। রাত ৮টার দিকে তার কাছ থেকে ৮টি ডাব কেনেন মাদারীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রফিক। পরে সেখানে বসেই বন্ধুদের নিয়ে ডাব খান রফিক। বিক্রেতা সূত্রে জানা যায়, ডাবের দাম ১২০০ টাকা হয়। কিন্তু তাকে ৫০০ টাকা দেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। এতেই আপত্তি জানান ডাব বিক্রেতা। পরে আরও ৭০০ টাকা চাইলে ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিম বেপারীকে উল্টো ভয়ভীতি দেখান। এসময় ডাব বিক্রেতার চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দেন পুলিশ সার্জেন্ট রফিক। পরবর্তীতে ডাব বিক্রেতার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসে মাদারীপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। এই ঘটনায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডাব বিক্রেতার ভাড়া বাসা থেকে মাদারীপুরের ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ ভুক্তভোগী ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিমকে ডেকে নিয়ে যান জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। প্রায় ৬ ঘণ্টা ডাব বিক্রেতা করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি কাগজে স্বাক্ষর করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, ডাবের দাম কম দিয়েও সার্জেন্ট আমাকে হুমকি দিলেন। পরদিন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমাকে ৬ ঘণ্টা রাখা হয়েছে। পরে স্বাক্ষর রেখে আমাকে আসতে হলো। এমন অন্যায়ের আমি বিচার চাই। অভিযুক্ত সার্জেন্ট মো. রফিক বলেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কোনো ডাব খাইনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ডাব বিক্রেতাকে অফিসে ডেকে আনা হয়েছে মূলত কী ঘটনা ঘটেছে এটা জানার জন্য। অন্যকিছু নয়। ট্রাফিক সার্জেন্টের দোষ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া পুরো বিষয়টিই পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এফএ/জেআইএম