TheBangladeshTime

অসচ্ছল প্রতিবেশীদের বাড়ি গরুর মাংস পৌঁছে দিলো ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’

2026-03-16 - 15:34

যশোরের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ টাকা। এই দামে মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হাসিনা বেগমের। সবশেষ গত কোরবানির ঈদে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দেওয়া কোরবানির পাওয়া মাংসই খেয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন থেকে বিনামূল্য গরুর মাংস পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন এই নারী। হাসিনা বেগম বলছিলেন, ‘স্বামী ও সন্তান নেই। একমাত্র প্রতিবন্ধী নাতনি নিয়েই কোনো রকম বেঁচে আছি। ঠিকমতো খেতেই পারি না; তা ঈদ করবো কী করে! গরিব মানুষ। গত কোরবানিতে গরুর মাংস খেয়েছি আর খেতে পারিনি দামের কারণে। ঈদের দিন এই গোশতটুকু পেয়ে খুব খুশি লাগছে। ঈদের দিন নাতনিরে রান্না করে দেবো।’ হাসিনার মতো শহরের শংকরপুর এলাকার ৬০ হতদরিদ্র পরিবার পেয়েছে বিনামূল্যে গরুর মাংস। এলাকার সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও চাকরিজীবীদের নিয়ে গঠিত ‘ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোর’ ঈদের আগে ‘অসচ্ছল প্রতিবেশীদের জন্য ঈদ উপহার’ শিরোনামে গরুর মাংস বিতরণ করেছে। বিতরণ করার আগে সংগঠনের সদস্যরা বাজার থেকে গরু কিনে কার্যালয় চত্বরে জবাই করেন। এরপর মাংস প্রস্তুত করে প্যাকেজজাত করে বাড়ি বাড়ি এসব পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্যাকেজজাত করা এসব গরুর মাংসের প্যাকেট ভুক্তভোগীরা পাওয়ার আগেও জানতেন না তারা গরুর মাংস পাবেন। হঠাৎ করেই রমজানের শেষ বিকেলে দুয়ারে দুয়ারে এভাবে গরুর মাংস পেয়ে অনেকেই যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন কেউ কেউ। তেমনি একজন নারী রেহেনা পারভীন। তার স্বামী বেজপাড়া খবরস্থানের খাদেম। বাড়িতে হঠাৎ করে এভাবে মাংস পেয়ে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘গতবছরও ঈদের আগে এই সংগঠনের লোকজন আমাদের গরুর মাংস এবং ঈদ সামগ্রী দিয়েছিল। এবছরও দিয়েছে। আমাদের সামর্থ্য নেই গরুর মাংস কেনার। তাদের এই সহযোগিতা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।’ ঈদ উপহার দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডস ক্লাব যশোরের সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু, সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বাবু, যুগ্ম সম্পাদক- ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম টিপু, কোষাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম মিঠুন মোল্লা, সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক হোসেন, সাকিব হাসান, ইমরান কবির প্রমুখ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফুল আজাদ বলেন, ‘ঈদের দিন আমরা অনেকেই গরুর মাংস বা ভালো খাবার খাবো। কিন্তু আমাদের অনেক প্রতিবেশী আছে এসব খেতে পারবে না। তাই প্রতিবছর আমরা মাংসসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী দিয়ে থাকি। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হিসেবে গরুর মাংস দিয়েছি। এর কারণ অনেকেই দামের কারণে গরুর মাংস খেতে পারেন না।’ সভাপতি মাহমুদ এলাহী মানু বলেন, ফ্রেন্ডস ক্লাব প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছে। এসব দরিদ্র মানুষের জন্য আমরা সবসময় পাশে থাকবো। মিলন রহমান/এসআর/এএসএম

Share this post: