ভোগান্তি নেই পাটুরিয়া ফেরিঘাটে, নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ
2026-03-17 - 08:04
ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত নৌরুট পাটুরিয়া ফেরিঘাটে এবার নেই আগের মতো ভোগান্তি। নির্বিঘ্নেই পারাপার করছেন ঘরমুখো মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দুপুর ১২টার পর যানজট অনেকটাই কমে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ঘাটে আসা যানবাহনগুলোকে অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত ফেরিতে উঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে এবং লঞ্চ চলাচল করছে ২০টি। জরুরি পণ্য, শিশুখাদ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়নি। প্রয়োজনে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর বেশিরভাগ যানবাহন সেতুপথ ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের অনেক পরিবহন এখনো এই নৌপথেই চলাচল করছে। এছাড়া ঘাট ব্যবহারকারী ও চালকদের মধ্যেও দেখা গেছে স্বস্তি। গোল্ডেন পরিবহনের চালক ইমদাদুল হক বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় এখন সহজেই ঘাটে আসা যায়। আগে ঈদের সময় দীর্ঘ যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। যশোরগামী যাত্রী ইকবাল হোসেন জানান, আগে ঈদে বাড়ি যেতে হলে সড়কের যানজট ও ঘাটে ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বাস ও প্রাইভেটকারের জন্য পৃথক লেন রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘাট এলাকা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছে। সকালের দিকে কিছুটা চাপ ছিল, এখন নেই। বিকেলের দিকে চাপ বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত চাপ হলেও দ্রুত পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মো. সজল আলী/এনএইচআর/এএসএম