TheBangladeshTime

পাবনায় ৫-৭ ঘণ্টায় ফুরিয়ে যাচ্ছে দুই দিনের পেট্রোল

2026-03-09 - 13:34

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে। সংকট আতঙ্কে পাবনায় দুদিনের পেট্রোল ৫-৭ ঘণ্টায় ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি পাম্প মালিকদের। তবে ক্রেতারা বলছেন, মজুত করছেন ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে কারসাজি রোধে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। সম্প্রতি ইসরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। ফলে দেশে পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের সংকট আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে দেশবাসীকে। এ আতঙ্কে গত ৫ মার্চ বিকেল থেকে হঠাৎ করেই বেশি করে তেল ভরে রাখতে পাবনার পাম্পগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বাইকাররা। সন্ধ্যা থেকে রাত গড়াতেই তেল ফুরিয়ে যায় পাম্পগুলোতে। পরদিন পাবনার বেশিরভাগ পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ থাকে। এর পরদিন পাম্পগুলোতে তেল এলেও অতি চাপে কয়েক ঘণ্টায় তেল ফুরিয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজন হলেও অনেকেই তেল না নিয়েই ফিরে যান। একই সমস্যা অব্যাহত রয়েছে এখনো। পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা জানান, অনেকটা স্বাভাবিক সময়ের মতো পেট্রোল এলেও বাইকারদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে স্বাভাবিকভাবে বিক্রি করা যাচ্ছে না। পেট্রোল আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাইকাররা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এতে দিনের বেশিরভাগ সময়ই পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাবনা শহরের রাধানগর এলাকার এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আলামিন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আগে পেট্রোল আনতে আমাদের গাড়ি গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। এখন কিছু সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে তেল প্রায় একই পরিমাণে পাচ্ছি। কিন্তু ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন গ্রাহকরা। যিনি আগে ২০০ টাকার তেল নিতেন, তিনি এখন এসে দুই হাজার টাকার চাচ্ছেন। কিন্তু আমরা ২০০ টাকার বেশি দিচ্ছি না। ফলে অনেকেই তেল নিয়ে আবার এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এতে তেল দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আগে হয়তো সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল এনে খুবই স্বাভাবিকভাবে দুদিন ধরে বিক্রি করতাম। কিছুটা থাকতেই আবার গাড়ি পাঠানো হতো। কিন্তু এখন ওই পেট্রোলই ৫-৭ ঘণ্টায় ফুরিয়ে যাচ্ছে। অনন্ত বাজার এলাকার হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মচারী বলেন, ‘কোনো পাম্প তেল মজুততো দূরে থাক, কিছুটা রিজার্ভেই বা রাখবে কীভাবে? যা আসছে তাতো আনতে আনতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাড়িতে বোতলে ভরে রেখে বাইকের ট্যাংক খালি করে আবার আসছেন। কিছু বাইকার প্রতিদিনই তেল নিচ্ছেন। এতে অন্যরা তেল পাচ্ছেন না। সেগুলো ফেসবুকে ভাইরাল করে দেওয়া হচ্ছে। মূলত এভাবেই সংকটের ভয় ছড়িয়ে পড়েছে।’ পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলোর সামনে রশি টানিয়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে। বন্ধ থাকলেও পাম্পের সামনে অনেক বাইকার তেলের অপেক্ষায় রয়েছেন। পেট্রোলের অপেক্ষায় থাকা হাসানুর রহমান বলেন, ‘বড় বিপদে আছি। সরকার বলে তেলের সংকট নেই, এদিকে পাম্পে তেল পাচ্ছি না। এভাবে মেপে মেপে তো কাজ করা যায় না।’ মামুন হোসেন নামের এক বাইকার বলেন, ‘আমি সংবাদপত্রে কাজ করি। কাজের তাগিদে আমাদের প্রতিনিয়িত ছুটতে হয়। কিন্তু পেট্রোল নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। তেলের অভাবে দুদিন বাইকই বের করতে পারিনি। প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত না নিলে এই সমস্যা এতটা প্রকট হতো না।’ তেল নিয়ে পাম্প থেকে বের হচ্ছিলেন মো. আকাশ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুরুতে বেশি তেল নিতে এতো হুড়োহুড়ি করিনি। কিন্তু এখন দেখছি সমস্যা আরও বাড়ছে। তাই বেশি করে ভরতে চাইলাম। কিন্তু ৩০০ টাকার বেশি দিলো না।’ এদিকে তেল মজুত ও অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ কারসাজি রোধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহে পাম্পগুলো তেল কিছুটা কম পাওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, তেল মজুত রাখা বা কারসাজি করার সুযোগ নেই। পাম্পগুলোর রিজার্ভার চেক দেওয়া হচ্ছে। খেলাবাজারে বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। আলমগীর হোসাইন নাবিল/এসআর/এএসএম

Share this post: