TheBangladeshTime

কেই এই ডিসি কোহিনূর

2026-03-09 - 16:14

১৫ বছর পর চাকরি ফিরে পেয়েছেন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়া। দেড় দশক কোনো দৃশ্যপটে ছিলেন না এই কর্মকর্তা, তাকে নিয়ে ছিল না কোনো আলোচনা। কিন্তু চাকরি ফিরে পেয়ে আবারও আলোচনায় আলোচিত এই ডিসি। সোমবার (৯ মার্চ) রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় প্রায় ১৫ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল করেছে সরকার। নতুন আদেশের ফলে তিনি পুলিশে চাকরি ফিরে পেলেন। এই পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে। মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। কে এই কোহিনূর মিয়া নানা ঘটনায় ওই সময় আলোচনায় থাকা এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেড় দশক আগে ডিএমপির ডিসি ও ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে কর্মরত থাকার সময় বিতর্ক তৈরি করে সমালোচনার মুখে পড়েন বিসিএস ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়া। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবশেষে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হলো। শামসুন্নাহার হলকাণ্ড ২০০২ সালে বিএনপি জোট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলকাণ্ডে প্রথম উঠে আসে কোহিনূর মিয়ার নাম। ওই বছরের ২৩ জুলাই গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হলের ফটক ভেঙে হামলা চালায় পুলিশ। তখন ওই হামলার নেপথ্যে এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আলোচিত হয়। ময়মনসিংহে জোড়া খুন এরপর ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় একটি জোড়া খুনের ঘটনায় ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহের নান্দাইলে ২০০৪ সালের ৫ মে আচারগাঁও হাইস্কুল কেন্দ্রে পৌর নির্বাচনে ভোট চলাকালে দুই পক্ষের সংর্ঘষে গুলিতে সুজন ও আবু তাহের নামে দুজনের মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন ১৫ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন ডিসি কোহিনূর জার্সি পরেই যমুনার সামনে রমনার ডিসি মাসুদ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কে এই মোজতবা খামেনি? ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তখন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে নান্দাইল থানায় মামলা দায়ের করে। পরে তদন্ত শেষে আসামি শনাক্ত না হওয়ায় তিনবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে পুনরায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নান্দাইলের সাবেক এমপি খুররম খান চৌধুরী, তৎকালীন পুলিশ সুপার কোহিনূর মিয়া ও পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তার ভূঁইয়া উজ্জ্বলসহ ছয়জনের নাম দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে নান্দাইল থানা পুলিশ মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে ওই বছরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া নারাজি দিয়ে ২০০৮ সালে জেলা জজ আদালতে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি ২০১১ সালে এসপি কোহিনূর মিয়া ও নান্দাইল পৌরসভার মেয়র আব্দুস ছাত্তারের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ওই মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর ৬ মাস পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর কোহিনূর মিয়া ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস ছাত্তারকে খালাস দিয়ে রায় দেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাবরিনা আলী। তবে মামলা চলাকালীন দীর্ঘ এ সময়ে তিনি কখনো গ্রেফতার হননি। পলাতক অবস্থাতেই তাকে মামলা থেকে খালাসের রায় দেন আদালত। এবার আলোচিত এ পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হলো। তার বরখাস্তের আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে রুজু করা দুটি বিভাগীয় মামলায় তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। যে দুটি অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল সেই একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি ফৌজদারি মামলায় আদালত তাকে নির্দোষ গণ্য করে দায় থেকে খালাস দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মঞ্জুরপূর্বক আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ডাদেশটি বাতিল করা হয়। টিটি/ইএ

Share this post: