TheBangladeshTime

পশ্চিমবঙ্গে গ্যাস সংকটে বন্ধ হওয়ার পথে রেস্তোরাঁগুলো

2026-03-11 - 12:14

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ অনেক আগেই এসে পড়েছে ভারতের গায়ে। সরবরাহ সংকটে বেড়ে গেছে গ্যাসের দাম। এবার তার ধাক্কা লাগছে পশ্চিমবঙ্গের হোটেল ব্যবসাতেও। গত শনিবার ৭ মার্চ থেকে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক—দুই ধরনের রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে রাজ্যে ১৪ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৭৯ রুপি। এখন তা ৬০ রুপি বেড়ে ৯৩৯ রুপি হয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে গ্যাসের দাম ছিল ১ হাজার ৮৭৬ রুপি। সেটি ১১৪ রুপি বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৯০ রুপি। এর ফলে রান্নার গ্যাস নিয়ে কার্যত হাহাকার শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে। এলপিজি গ্যাসের সংকটে ছোট থেকে বড় বহু রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। আবার, রান্নার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার জোগাড়ে কালোবাজারে হাত বাড়াচ্ছেন অনেকে। মেনল্যান্ড চায়না রেস্তোরাঁর কর্ণধার অঞ্জন চট্টোপাধ্যায় জাগোনিউজকে বলেন, মুম্বাইতে আমাদের আপাতত কোনো অসুবিধা নেই। কারণ সেখানে পাইপলাইনের গ্যাস রয়েছে। দিল্লিতেও তেমন কোনো অসুবিধা নেই। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই—এই দুই বড় শহরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যদি এটি দুই-তিনদিনের মধ্যে সমাধান না হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আমাদের যেসবত রেস্তোরাঁ রয়েছে, সেগুলো দুর্ভাগ্যজনকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুরের দাদা-বৌদির বিরিয়ানি দোকানের কর্ণধার সঞ্জিত সাহা জানান, এখানে এখনো পর্যন্ত তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে সমস্যা না মিটলে প্রভাব পড়া শুরু হয়ে যাবে। রান্নার গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ডিলাররা বলছেন, গ্যাস দিতে পারবো না। কারণ, তাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যুদ্ধ তাড়াতাড়ি থামুক, শান্তি ফিরুক। আমার প্রতিদিন ৩০টি সিলিন্ডার লাগে। প্রতি মাসে ৯০০টি সিলিন্ডার লাগে। এই গ্যাসে আমাদের রেস্তোরাঁয় বাঙালিয়ানা রান্না হয়। গ্যাস না পেলে আমাদের এই বাঙালিয়ানা রান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। পরে কীভাবে চলবে, জানি না। সূত্র বলছে, ভারতে ৭০ দিনের জ্বালানি মজুতের দাবি করা হচ্ছে। তবু এলপিজি, সিএনজি, এলএনজি—সব ধরনের গ্যাসের সংকট চরমে পৌঁছেছে। হেঁসেল থেকে বাণিজ্য, কারখানা থেকে পরিবহন—গ্যাস সংকটে নাজেহাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ডিডি/কেএএ/

Share this post: