TheBangladeshTime

প্রস্তুতি ম্যাচে তামিমের সেঞ্চুরি, লিটন-আফিফের ব্যাটে রান

2026-03-07 - 15:44

একজন সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে লাগাতার ব্যর্থ হচ্ছিলেন, আরেকজন দলেই ফিরলেন দেড় বছর পর। মিডল অর্ডারে ঘাটতি পোষাতেই দুইজনকে পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মূল সিরিজ শুরুর ৪ দিন আগে বিসিবি একাদশ বনাম বিসিএল অল স্টারসের প্রস্তুতি ম্যাচে লিটন কুমার দাস ও আফিফ হোসেন, দুজনেরই নিজেকে প্রমাণের সুযোগ ছিল। সেখানে ইনিংস বড় করতে না পারলেও দুজনেই ছন্দে ছিলেন। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে সাজানো বিসিবি একাদশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বিসিবি একাদশ ৮ উইকেটে ২৯৫ রান সংগ্রহ করে। ১০০ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তানজিদ তামিম। ৩৮ বলে ৪৪ রান করেন লিটন আর আফিফের ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ২৯ রান। ১৭৯ রানে তৃতীয় উইকেট পড়লে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। ৩৮তম ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৫ বলে ৪০ রান করে বিদায় নিলে আফিফ হোসেন তার সঙ্গে যোগ দেন। এই জুটি ৪৫তম ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে ষষ্ঠ উইকেটে ৬৭ রান যোগ করেন। পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে দুজনই ছিলেন আগ্রাসী। ৪৪ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান লিটন। আর রানআউটে কাটা পড়ার আগে ২৯ বলে এক চারে ২৯ রান করেন আফিফ। বাকিদের জন্য স্রেফ প্রস্তুতির মঞ্চ হলেও লিটন-আফিফের জন্য নিজেদের সামর্থ্য আরেকবার দেখানোর ছিল। ওপেনিংয়ে লাগাতার ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা পাননি লিটন। পরের মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিরলেও শূন্য রানে আউট হয়ে পরের ম্যাচে আবার বাদ পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার শেষ পাঁচটি ওয়ানডে ইনিংস ছিল ০, ০, ৪, ২ এবং ০। এরপর চোটের কারণে খেলতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। এবার মিডল অর্ডারে তাকে নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সর্বশেষ বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে নর্থ জোনের হয়ে সাউথ জোনের বিপক্ষে ৫৫ রানসহ তিনটি লিস্ট-এ ম্যাচে ৫৬ রান করেছেন তিনি। তবে লিটনের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দলে তার অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন লিপু। তিনি বলেন, লিটন দাসের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তবে সে কোচেদের সাথে তার খেলার উন্নতির জন্য কাজ করছে। মিডল অর্ডারে তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে লিপু আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সে শীঘ্রই এই ফরম্যাটে তার সেরাটা দিতে পারবে এবং আমরা তাকে মিডল অর্ডার শক্তিশালী করার একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে লিটনের জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সুযোগ। নতুন বলের সুইংয়ে ভোগা লিটনকে বেশিরভাগ সময়ে পুরোনো বলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সামলাতে দেখা গেছে। টেস্টেও ৫-৬ নম্বরে ব্যাটিং করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। সেক্ষেত্রে ওয়ানডেতেও পুরোনো বলে নিজেকে দলে সেটেল করার সুবর্ণ সুযোগ লিটনের সামনে। অন্যদিকে দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফেরা আফিফ হোসেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। সম্প্রতিক বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের টুর্নামেন্টে নর্থ জোনের হয়ে ৮৬ বলে একটি সেঞ্চুরি করেন। এরপরই জাতীয় দলের মিডল অর্ডারের জন্য তাকে চিন্তা করেন নির্বাচকরা। সাম্প্রতিক সময়ে মিডল অর্ডারেই বেশি ভুগছে জাতীয় দলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ পর্যন্ত জাকের আলী, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনদের পরখ করে দেখা হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এদের মধ্যে পাকিস্তান সিরিজে স্কোয়াডে আছেন কেবল অঙ্কন। স্কোয়াড ঘোষণার সময় আফিফকে দলে ফেরানোর ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, আমরা মিডল অর্ডারে অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউ কেউ তাদের জায়গা পাকা করার মতো যথেষ্ট কিছু করতে পারেনি। সেই কথা মাথায় রেখেই আফিফ হোসেনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সে অভিজ্ঞ এবং বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছে। শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে সাতটাতে ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি মেহেদী হাসান মিরাজের দল, জয় মাত্র ৩ ম্যাচে। বিসিএল ফাইনালের পর এই ব্যর্থতার জন্য মিডল অর্ডারকে দায় দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আগামী বছর হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে এখন প্রতিটি সিরিজই বাংলাদেশের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে মিডল অর্ডার ঘুরে দাড়াতে না পারলে বাংলাদেশের জন্য সেটা বাজে অভিজ্ঞতা হতে পারে। উল্লেখ্যে, বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের প্রায় ২০টি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে এবং ভারত দল বাংলাদেশ সফরে আসলে আরও তিনটি ম্যাচ বাড়তে পারে। এসকেডি/এমএমআর

Share this post: