TheBangladeshTime

লন্ডনের সিভিক রেকর্ডে নাম লেখালেন বাংলাদেশি জয়নাব চৌধুরী

2026-02-15 - 03:56

শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লন্ডনে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিভিক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন ১১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কন্যা জয়নাব চৌধুরী। যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের ব্যতিক্রমী ভূমিকার মাধ্যমে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরায় তাকে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্প্রতি লন্ডনের একটি টাউন হলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জয়নাবকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্পিকার, ডেপুটি মেয়র, ক্যাবিনেট মেম্বার, চিফ এক্সিকিউটিভ, ফার্স্ট সিটিজেন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং ব্রিটিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মাননা প্রাপ্তির মাধ্যমে জয়নাব চৌধুরীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে এবং স্থায়ীভাবে লন্ডনের ‘সিভিক রেকর্ডে’ অন্তর্ভুক্ত করা হলো, যা খুব কম সংখ্যক মানুষের ভাগ্যে জোটে। যুক্তরাজ্যের সিভিক ব্যবস্থা মূলত ক্রাউন রাজতন্ত্রের অধীনস্থ সাংবিধানিক কাঠামোর একটি অংশ। জয়নাব এই ক্যাটাগরিতে সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সিভিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহিতা হিসেবে দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করেছেন। জয়নাব চৌধুরী কেবল সমাজসেবী নন, তিনি একজন উদীয়মান লেখিকাও। তার প্রকাশিত বই ‘My Journey Through Cayley Primary’ এরই মধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছে। বইটিতে একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে বিদ্যালয় জীবন, অধ্যবসায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার গল্প অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। শৈশব থেকেই সমাজসেবায় যুক্ত জয়নাব। কোভিড-১৯ মহামারির সংকটময় সময়ে অত্যন্ত অল্প বয়সেই তিনি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে চ্যারিটেবল কাজের অংশ হিসেবে নিয়মিত খাদ্য বিতরণ, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার অংশগ্রহণ কমিউনিটিতে তাকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে। জয়নাব চৌধুরী কমলগঞ্জের তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও লন্ডনের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাসান চৌধুরী (শিপনের) মেয়ে। তার দাদি রুনা বেগম (বি.এ. বি.এড.), যিনি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডেপুটি হেড টিচার হিসেবে সারাজীবন জ্ঞান বিতরণে নিবেদিত ছিলেন, তার আদর্শেই জয়নাব বেড়ে উঠছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, জয়নাবের এই অর্জন প্রমাণ করে যে সঠিক উৎসাহ ও সহায়তা পেলে অল্প বয়সেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। পড়াশোনায় কৃতিত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জয়নাবকে তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমআরএম

Share this post: