বাবার জানাজার তিনঘণ্ট আগে মাছ লুটের অভিযোগে মামলা
2026-03-16 - 06:34
বাবার জানাজার তিনঘণ্টা আগে মাছ লুটের মামলা হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কোষাধ্যক্ষ এসএম ফারুক হোসেন এবং সাতৈর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে বোয়ালমারী থানার মামলাটি দায়ের হয়। এর আগে বিকেলে বিলচাপাদহের সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস বাদী হয়ে এজাহার দাখিল করেন। মামলায় দুই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলামসহ ২৫ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০-১৫০ জনকে। এদিকে ঘটনার আগের দিন রাতে (১ মার্চ) সাতৈর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের বাবা মো. রাশেদ মোল্লা মারা যান। পরদিন সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মৃতদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু রাতে বাবার মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে রেখে ঘটনার তিন ঘণ্টা আগে বিলের মাছ লুটের অভিযোগে ঘটনার তের দিন পরে মামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২ মার্চ সকাল ৭টার দিকে বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় বিল চাপাদহের আশি লাখ টাকার মাছ ও সরঞ্জাম লুট করে বলে বাদী এজারের উল্লেখ করেন। এ ব্যপারে মামলার চার নম্বর আসামি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের ভাই এনামুল মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, আমার বাবা রাশেদ মোল্লা ১ মার্চ দিনগত রাতে মারা যান। আমি তখন ঢাকায় ছিলাম। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে বাড়িতে যাই এবং পরদিন সকাল ১০টার দিকে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। বাবার মৃত্যুর তেরদিন পরে ১৫ মার্চ রাতে জানতে পারি আমাদের দুই ভাইয়ের নামে মামলা হয়েছে। সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, ১ মার্চ রাতে আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা যান। ২ মার্চ সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাহলে আমার বাবার মরদেহ রেখে সকাল ৭টায় কীভাবে মাছ লুট করতে গেছি। আমাদের রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক হোসেন বলেন, গত পাঁচ আগস্টের পরে চাপাদহ বিল এলাকায় একটিবারের জন্যও যাইনি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে এ মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ মামলা মিথ্যা, ভিত্তিহীন। হেনস্তা করার জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে বিলের মাছ লুট ও ঘটনার তের দিন পরে থানায় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও বিলচাপাদহ মৎসজিবী সমিতির সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, বিলে পাহারাদার ছিলেন। পাহারাদাররা যাদের যাদের মাছ মারতে দেখছে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী মামলায় আসামি করা হয়েছে। সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউল আলম মিন্টুর মোবাইলে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যপারে বক্তব্য জানতে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি কলটি বারবার কেটে দেন। এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মো. আজম খান জাগো নিউজকে বলেন, মামলা হতেই পারে। মামলায় তদন্ত করে বাদ যায়, যুক্ত হয়। মামলা তদন্ত করে, সত্য-মিথ্যা যাচাই করে মামলার তদন্তকারীকে কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। এন কে বি নয়ন/আরএইচ/এমএস