আশেপাশের বন্যপ্রাণি রক্ষায় আপনার করণীয় কী
2026-03-03 - 03:14
আমাদের আশেপাশে যে পাখি, কাঠবিড়ালি, বাদুড়, শালিক, চড়ুই কিংবা ছোট সরীসৃপগুলো থাকে – আমাদের মতো তারাও এই পৃথিবীর সন্তান, প্রকৃতির অংশ। কিন্তু তাদের জন্য কি আমরা কিছু করছি? বরং আমাদের গড়ে তোলা কংক্রিটের শহর দিনদিন তাদের আরও কোনঠাসা করে ফেলছে। গাছ, জলাশয় আর নিরাপদ বাসস্থান কমে যাচ্ছে। ফলে লোকালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী বন্যপ্রাণি সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে। আজ, ৩ মার্চ, বিশ্ব বন্যপ্রাণি দিবস। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের এই দিনে তাই আমাদের সবার জানা উচিত যে, প্রতিদিনের কোন কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা এই বন্যপ্রাণিদের রক্ষা করতে পারি। জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা ইউনাইটেড নেশন এনভাইরনমেন্ট প্রোগ্রাম সতর্ক করেছে, নগরায়ন ও আবাসস্থল ধ্বংস জীববৈচিত্র্য হ্রাসের বড় কারণ। আবার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের লাল তালিকা দেখায় যে, অসংখ্য প্রজাতি বাসস্থান সংকট ও মানবসৃষ্ট ঝুঁকির কারণে আজ বিলুপ্তির পথে। তাই সচেতনতা শুরু হোক ঘর থেকে, বারান্দা থেকে, ছাদ থেকে। ১. গাছ লাগান, দেশি গাছকে অগ্রাধিকার দিন লোকালয়ের পাখি ও ছোট প্রাণির প্রধান ভরসা গাছ। দেশি ফলদ ও ফুলগাছ পাখির খাবার ও বাসা বাঁধার জায়গা দেয়। শুধু শোভাবর্ধক বিদেশি গাছ নয়, স্থানীয় প্রজাতির গাছ লাগালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। ২. খাঁচাবন্দি বন্য পাখি কিনবেন না শখ করে টিয়া, ময়না বা বুনো পাখি কিনে খাঁচায় রাখা অবৈধ ও অমানবিক - এতে অবৈধ বন্যপ্রাণির বাণিজ্য বাড়ে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড জানায়, অবৈধ বন্যপ্রাণি বাণিজ্য জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। বন্য পাখি প্রকৃতির জন্য, ঘরের শোভাবর্ধনের জন্য নয়। ৩. বারান্দায় নিরাপদ পানি রাখুন গরমকালে ছোট একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি রাখলে পাখিরা উপকৃত হয়। তবে নিয়মিত পানি বদলানো জরুরি, যাতে মশার বংশবিস্তার না হয়। ৪. কীটনাশক ব্যবহার কমান বাড়ির বাগান বা ছাদে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করলে পোকামাকড় কমে যায়, ফলে পাখির খাবারের উৎসও কমে। বিষাক্ত রাসায়নিক ছোট প্রাণির জন্যও ক্ষতিকর। পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করলে স্থানীয় প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষা পায়। ৫. আহত প্রাণি দেখলে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন না অনেক সময় আহত পাখি বা বন্য প্রাণি দেখে আমরা ঘরে তুলে আনি। কিন্তু ভুল যত্ন তাদের জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে। স্থানীয় বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণি উদ্ধার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করাই নিরাপদ উপায়। ৬. শিশুদের সচেতন করুন প্রকৃতি রক্ষার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই শুরু হওয়া উচিত। পাখির বাসা নষ্ট না করা, ঢিল না ছোড়া, প্রাণির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া - এই অভ্যাসগুলোই ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব নাগরিক তৈরি করে। বিশ্ব বন্যপ্রাণি দিবস শুধু বন-জঙ্গলের বাঘ বা হাতির কথা বলে না; আমাদের বারান্দায় আসা চড়ুই, সন্ধ্যায় উড়ে যাওয়া বাদুড় কিংবা গাছের ডালে বসা দোয়েল রক্ষা করাও এর অংশ। বন্যপ্রাণি রক্ষা মানে দূরের কোনো কাজ নয় - এটি আমাদের দৈনন্দিন আচরণের অংশ। সূত্র: ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার লাল তালিকা, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড রিপোর্ট এএমপি/জেআইএম