ওয়েলবেকের নৈপুণ্যে লিভারপুলকে উড়িয়ে দিলো ব্রাইটন
2026-03-22 - 03:30
কখনো হার, কখনো ড্র, মাঝে-মধ্যে জয় - এভাবেই চলছে লিভারপুলের এবারের মৌসুম। যে কারণে শিরোপা জিততে না পরুক, অন্তত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগামী মৌসুমে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই বড় লক্ষ্য ক্লাবটির; কিন্তু এই লক্ষ্যও অর্জন হবে না হয়তো অলরেডদের। কারণ, ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিওনের মত ক্লাবের কাছেও হারতে হরো আরনে স্লটের শিষ্যদের। অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে ব্রাইটনের জয় নিশ্চিত করলেন ড্যানি ওয়েলব্যাক। তার নৈপুণ্যে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় ব্রাইটন। এ হারে ৩১ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেলো লিভারপুল। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে ১ম স্থানে রয়েছে ব্রাইটন। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ব্রাইটন। খেলার ১৪তম মিনিটেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাম দিক থেকে ভেসে আসা একটি নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ওয়েলবেক। যা ম্যাচের শুরুতেই এই গোল লিভারপুলকে চাপে ফেলে দেয়। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে লিভারপুল। ৩০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে অলরেডদের সমতা ফেরান মিলোস কেরকেজ। এই গোলের পর ম্যাচে কিছুটা ভারসাম্য ফিরে আসে এবং প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে আবারও আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাইটন। ৫৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক দলগত আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওয়েলবেক। সতীর্থদের চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। লিভারপুলের জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে শুরুতেই। মাত্র ৮ মিনিটে ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকে। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে ধার কমে যায়। এর সঙ্গে আগে থেকেই দলে ছিলেন না গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার এবং দলের সেরা তারকা মোহাম্মেদ সালাহ, যা দলকে আরও বিপাকে ফেলে। শেষ দিকে কোচ আরনে স্লট একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু আক্রমণে ধারালো ফিনিশিংয়ের অভাবে আর গোলের দেখা পায়নি লিভারপুল। অন্যদিকে, ব্রাইটনের গোলরক্ষক বার্ট বারব্রুগেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন। এই জয়ের ফলে ব্রাইটন শেষ পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে লিভারপুলের জন্য এটি আরেকটি হতাশার রাত, যা তাদের আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। আইএইচএস/