TheBangladeshTime

জবি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবি

2026-03-07 - 13:03

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (শেকৃবিসাস), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গোবিপ্রবিসাস), ডুয়েট সাংবাদিক সমিতি, নিটার সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাংবাদিক সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, চুয়েট সাংবাদিক সমিতি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতি। এসব সংগঠনের সাংবাদিক নেতারা বলেন, জবিসাস কার্যালয়ে বহিরাগতরা অনুপ্রবেশ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ২ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৫ মার্চ মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে নির্বাচন ছাড়াই প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাহাদাত হোসেন অনুকে সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মাহমুদুর রহমান নাজিদকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা, পাশাপাশি মার্কেটিং ও ইতিহাস বিভাগের দুই অধ্যাপকের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোর অনু, বাসসের নাজিদ, জনকণ্ঠের জিলন, সমিতির বহিষ্কৃত সদস্য এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মিলনসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হট্টগোল শুরু করেন এবং পরে সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। আহতদের রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ‎ এ ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন জানিয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একটি সংগঠনের ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হুমকি। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন এবং অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার পরিবেশে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত। তারা আরও বলেন, হামলার পূর্বমুহূর্তে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এতে ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা— সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন নিশ্চিত করা। ‎ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন ছিল। তবে গতকাল রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। আজ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম চলাকালে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। বর্তমানে আহত ১০ জন সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন-২০২৬-এ একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক সমিতি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের তফসিল গত ২ মার্চ ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৫ মার্চ মনোনয়ন সংগ্রহ ও প্রত্যাহারের তারিখ নির্ধারিত ছিল এবং আগামী ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। টিএইচকিউ/এমএএইচ/

Share this post: