গোটা পরিবার হারালেও যেভাবে প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা খামেনি
2026-03-17 - 13:11
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছেন। জানা গেছে, হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে বাগানে হাঁটতে গিয়েছিলেন বলেই প্রাণে বেঁচে যান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে এ তথ্য উঠে এসেছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় মোজতবার বাবা ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা নিহত হন। অডিওতে খামেনির দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলার সময় মোজতবা খামেনি বাইরে ছিলেন এবং ভবনে ফিরে আসার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে তিনি পায়ে সামান্য আহত হন। তবে হামলায় তার স্ত্রী ও সন্তান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তার ভগ্নিপতির মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া খামেনির সামরিক দপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীআজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। ফাঁস হওয়া অডিওতে বলা হয়, এই হামলাটি ছিল পুরো খামেনি পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক। মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন, তবে যুদ্ধের গত ১৮ দিনে তাকে একবারও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি মোজতবার নিয়োগের পর কোনো ভিডিও বার্তাও আসেনি, শুধু একটি লিখিত বার্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়েছে। এই অনুপস্থিতি নিয়ে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানি না তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না। তার বাবাও তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে চাননি।’ সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ কেএএ/