TheBangladeshTime

গাড়ির উল্টা দিকে বসে বমি হলে যা করবেন

2026-03-28 - 12:11

বাস, ট্রেন বা গাড়ির জানালার ধারের সিট মানেই ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ। বাইরের দৃশ্য দেখতে দেখতে পথ পাড়ি দেওয়ার অনুভূতি থাকে অন্যরকম। কিন্তু সেই সিট যদি যাতায়াতের দিকের উল্টা দিকে মুখ করে থাকে, তবে অনেকের জন্য সেই আনন্দই মুহূর্ত কষ্টে পরিণত হয়। যারা স্বাভাবিকভাবে সামনে মুখ করে বসলে স্বস্তিতে থাকেন, তারাই উল্টা দিকে বসলেই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। উল্টা দিকে বসলেই কেন বাড়ে সমস্যা? এই সমস্যার মূল কারণ হলো শরীরের ভারসাম্য রক্ষার প্রক্রিয়ায়। আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় চায়, চোখ ও কানের ভেতরের অংশ থেকে আসা সংকেত যেন একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। যখন সামনে মুখ করে বসা হয়, তখন চোখ দেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং শরীরও সেই গতিকে অনুভব করে। ফলে মস্তিষ্ক সহজেই বিষয়টি বুঝে নেয়। কিন্তু উল্টা দিকে বসলে চোখ দেখে বাইরের দৃশ্যগুলো যেন দূরে সরে যাচ্ছে, অথচ শরীর অনুভব করে আমরা সামনে এগোচ্ছে। এই দ্বৈত সংকেত মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে তোলে। এই বিভ্রান্তির ফলেই শুরু হয় মোশন সিকনেস। অনেকের ক্ষেত্রে এই অমিল এতটাই তীব্র হয় যে মাথাব্যথা, বমি বা প্রচণ্ড অস্বস্তি দেখা দেয়। গবেষণা যা বলছে গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা যাতায়াতের দিকের দিকে মুখ করে বসি, তখন মস্তিষ্ক আগে থেকেই কিছুটা ধারণা করতে পারে, কখন গাড়ি বাঁক নেবে বা কখন গতি বাড়বে। ফলে শরীর প্রস্তুত থাকে। কিন্তু উল্টা দিকে বসলে এই পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। প্রতিটি ঝাঁকুনি বা মোড় হঠাৎ করেই অনুভূত হয়, যা স্নায়ুর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তায় এই সমস্যা আরও বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। উল্টা সিটে বসতে হলে যা করবেন সবসময় পছন্দমতো সিট পাওয়া যায় না। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে উল্টা দিকে বসতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চোখ বন্ধ রাখুন জানালার বাইরের দৃশ্য দেখলে যদি সমস্যা বাড়ে, তাহলে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখুন। এতে চোখ থেকে মস্তিষ্কে বিভ্রান্তিকর সংকেত কম যাবে এবং অস্বস্তিও কম অনুভূত হবে। মাথা স্থির রাখুন মাথা যত বেশি নড়াচড়া করবে, তত বেশি সমস্যা বাড়তে পারে। তাই সিটের হেলান বা ছোট বালিশ ব্যবহার করে মাথা স্থির রাখার চেষ্টা করুন। এতে অন্তকর্ণের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। মাঝামাঝি সিট বেছে নিন ট্রেন বা বাসে সম্ভব হলে মাঝামাঝি অংশে বসার চেষ্টা করুন। এখানে ঝাঁকুনি তুলনামূলক কম লাগে, ফলে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। মন অন্যদিকে ব্যস্ত রাখুন নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়াও কার্যকর উপায়। পাশের যাত্রীর সঙ্গে কথা বলা বা গান শোনা যেতে পারে। তবে মোবাইল বা বইয়ের দিকে তাকানো এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে চোখের ওপর চাপ বাড়ে এবং সমস্যা আরও বাড়তে পারে। ভ্রমণ আনন্দায়ক করতে হলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে সঠিক সিট বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কৌশল মেনে চলা খুবই জরুরি। সামান্য সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাস বদলেই মোশন সিকনেসের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সূত্র: এনডিটিভি, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ও অন্যান্য আরও পড়ুন: ছুটি শেষ হলেই মন খারাপ? জানুন ছুটির বিষণ্ণতা কাটানোর উপায় নখ কামড়ানোর অভ্যাসে হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এসএকেওয়াই

Share this post: