TheBangladeshTime

ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট, সূচকের বড় পতন

2026-03-24 - 10:11

ঈদের আগে দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললেও ঈদের পর প্রথম কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবকটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়লেও ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমেছে। ফলে মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও সূচকের পতন হয়েছে। দুই বাজারেই সূচকের পতন হলেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এর আগের ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়। তবে ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিললো। ফলে ঈদের পর একটি ভালো শেয়ারবাজার পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশায় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসেই বিনোদকারীদের আশাহত হতে হল। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে এসে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখায় মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকে। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড দাপট দেখালেও বিপরীত পথে বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এমনকি লেনদেনের শেষদিকে পতনের মাত্রা বাড়ে। ফলে সবকটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার পরও বড় দরপতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৩টির। আর ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২২টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫০টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭১টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডেরই দাম বেড়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে নেমে গেছে। সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রবি। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৭৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেনহয় ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এমএএস/এমকেআর

Share this post: