অগ্নিকাণ্ডে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু, বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার এনডিএমএর
2026-03-18 - 05:51
মালদ্বীপের দিগুরাহ দ্বীপে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের পর বিদেশি শ্রমিকদের উদ্ধার ও সহায়তায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠলেও মালদ্বীপের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) তা অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে শ্রমিকদের একটি আবাসিক ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের রান্নাঘরের গ্যাস লিক থেকে আগুনের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি সরু পথ ছিল। আগুন লাগার পর শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন। পরে উদ্ধারকারীরা ভবনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হতাহতদের উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলেই পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে এনডিএমএ জানায়, তারা পুলিশ ও স্থানীয় দ্বীপ পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে যে, বিদেশি শ্রমিকদের উদ্ধারে অবহেলা করা হয়েছে এবং তাদের আবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা দীর্ঘদিনের অবহেলিত। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনডিএমএ এক বিবৃতিতে জানায়, আমাদের নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় ও বিদেশি-সবার জন্যই সমানভাবে উদ্ধার তৎপরতা ও সহায়তা প্রদান করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করার অভিযোগটি ভিত্তিহীন। স্থানীয় গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভবনটিতে কোনো জরুরি নির্গমন পথ বা পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। উল্লেখ্য যে, এর আগেও মালদ্বীপে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি আবাসনে আগুন লেগে ১১ জন ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনার ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। আহত দুই বাংলাদেশিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মালদ্বীপ পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হবে এবং মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমআরএম