TheBangladeshTime

হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি

2026-03-20 - 12:01

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে করা ‘শিশু জিহাদ হত্যা’ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সবাইকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআরও আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অব্যাহতি পাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে গিয়ে ভুক্তভোগীকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য স্থানে ‘জখম হওয়ার’ ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ হিসেবে দেখিয়ে দায়ের করা মামলাটি ‘তথ্যগত ভুলে’ ভরা বলে প্রমাণিত হয়। এ কারণে গত বছরের ১১ আগস্ট চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই বদিয়ার রহমানের দাখিল করা সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে গত বছরের ৩০ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দি বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, ‘হত্যা’ দাবি করা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত। তিনি নিজেই আদালতে জানান, তিনি কেবল আহত হয়েছেন। তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার প্রকৃত স্থান ছিল ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা। অথচ মামলায় কেরানীগঞ্জের বছিলা ব্রিজ এলাকা উল্লেখ করা হয়। এই স্থানগত অসঙ্গতিও মামলাটিকে দুর্বল করে তোলে। তদন্ত কর্মকর্তা বদিয়ার রহমান বলেন, মামলায় দুটি বড় ভুল ছিল। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানো এবং ঘটনাস্থল ভুল উল্লেখ করা। তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় পড়ে বাদী বাসস্থান পুনর্বাসন ও আর্থিক সুবিধার আশায় মামলা করেন। তবে মামলার ভেতরে জিহাদকে মৃত দেখানো হয়েছিল, যা সম্পর্কে বাদী অবগত ছিলেন না বলেও তদন্তে জানা গেছে। ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এমন মামলা করেছে। তদন্তের মাধ্যমে সেসব ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হাজারীবাগ এলাকায় জিহাদের আহত হওয়ার প্রকৃত ঘটনা কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা হয়েছে এবং সেটির তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার বাদী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এমডিএএ/এমআইএইচএস

Share this post: