TheBangladeshTime

৮ হাজার মুরগি মরে তিন মাসে সোহাগের দুই দশকের স্বপ্ন শেষ

2026-03-04 - 07:44

তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন। চোখের সামনে নিঃশেষ হচ্ছে ধীরে ধীরে। ঠাঁই দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই সোহাগের। সোহাগ শেখের ২০ বছর ধরে গড়ে তোলা খামার। নিজ বাড়ির আঙিনায় তিনতলা বিশিষ্ট খামারটিতে গত তিন মাসে বার্ড ফ্লুতে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা গেছে। স্বপ্ন বাঁচাতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ভ্যাকসিন দিয়েও লাভ হয়নি। এক সময় খামারটির লেয়ার মুরগি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হতো। কিন্তু তিন মাসের ব্যবধানে দুই দশকের গড়া স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন ভেঙে পড়েছেন, অপরদিকে ঋণের চাপে দিশাহারা অবস্থা সোহাগের। খামারি সোহাগ শেখ বলেন, আমি এই ২০ বছর ধরে মুরগির খামারের ব্যবসা করছি। ছোট খামারটিতে তিলে তিলে পুঁজি বাড়িয়ে ১১ হাজার মুরগি উঠিয়েছি। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করে মুরগি মারা যাওয়া শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক রোগ ভেবে বিভিন্ন ওষুধ ও ভ্যাকসিন দিয়েছি। কিন্তু ডিসেম্বরের পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা গেছে। বর্তমানে মাত্র তিন হাজার আছে, সেগুলোও মরতেছে। প্রতিদিনই মুরগি মরে আর বস্তা ভরে ভরে মাটি চাপা দিই অথবা নদীতে ফেলছি। আমার পরিবারসহ ছয়জন কর্মচারীর জীবিকা এই খামারের ওপর। তাদের প্রত্যেককে মাসে ১৬ হাজার টাকা করে বেতন দিতে হয়। ৮ হাজার মুরগির খামারটিতে আমার প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ ছিল। সব শেষ হয়ে গেছে। খামারির অভিযোগ, ভালো সময়ে বিভিন্ন দোকানদার ও কিস্তির লোকেরা বাসায় এসে মালামাল ও লোন দিতে আগ্রহ দেখাতেন। খাবার, ওষুধ পর্যন্ত বাড়িতে পৌঁছে দিতেন। এখন পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারাই দ্বিগুণ টাকা দাবি করছেন। এক লাখ টাকার জায়গায় দুই লাখ দাবি করছে। দোকান থেকে যা পাওনা, তার চেয়ে বেশি দাবি করছে। সময় চাচ্ছি, কেউ সময় দিচ্ছে না। উল্টো মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। সবাই যদি এভাবে চাপ দেয়, আত্মহত্যা ছাড়া আমার উপায় নেই। সন্তানটির দিকে তাকিয়ে এখনো বেঁচে আছি। সোহাগের স্ত্রী আকালিমা বেগম বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। যারা টাকা পাবে তারা যদি এক বছর সময় দিত, আমরা আস্তে আস্তে শোধ করে দিতাম। এখন সবাই একসঙ্গে চাপ দিচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ কুমার দাস বলেন, আমরা খামার পরিদর্শনে যাচ্ছি। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাহিদ ফরাজী/এফএ/এমএস

Share this post: