দুর্নীতির দায়ে পাঁচ মাস আগে বদলি, তবুও চেয়ার ছাড়ছেন না সমবায় কর্মকর্তা
2026-03-09 - 14:24
দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নানা কৌশলে চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারপ্রাপ্ত সমবায় কর্মকর্তার চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন কাজী বাবুল হোসেন। বদলির স্থগিতাদেশের মেয়াদ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও তিনি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নথিপত্রে স্বাক্ষর অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বদলি ঠেকাতে অধিদপ্তরে দেওয়া তার পারিবারিক তথ্যেও বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগ দেন কাজী বাবুল হোসেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সমবায় অধিদপ্তর। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে কুষ্টিয়া জেলা সমবায় কার্যালয়ে উপ-সহকারী নিবন্ধক পদে বদলি করা হয়। ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ (অব্যাহতি) দেওয়া হলেও তিনি চুয়াডাঙ্গা ছাড়েননি। সূত্রে জানা গেছে, সন্তানদের পড়াশোনার অজুহাত দেখিয়ে বদলির আদেশ স্থগিতের আবেদন করেন কাজী বাবুল হোসেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বদলি স্থগিত রাখে। আবেদনে তিনি দাবি করেন, তার সন্তানরা চুয়াডাঙ্গায় পড়াশোনা করছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তার স্ত্রী কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষক। বড় ছেলে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র, মেজো ছেলে কুষ্টিয়া শহরের একটি মাদ্রাসায় এবং মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। পরিবারের সবাই কুষ্টিয়ায় অবস্থান করলেও কেবল বদলি ঠেকাতে তিনি তারা চুয়াডাঙ্গায় আছেন বলে ভুল তথ্য প্রদান করেছেন। নিয়মানুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক আনিছুর রহমানের যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু কাজী বাবুল হোসেন পদ না ছাড়ায় তিনি এখনো দায়িত্ব নিতে পারেননি। আনিছুর রহমান জানান, আমি চুয়াডাঙ্গায় যোগ দিতে প্রস্তুত আছি, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষায় রয়েছি। চেয়ার না ছাড়ার বিষয়ে কাজী বাবুল হোসেন বলেন, বদলি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো যোগদান করা হয়নি। তবে দ্রুতই কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ে যোগদান করব। তবে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোন ক্ষমতাবলে তিনি দাপ্তরিক ফাইলে স্বাক্ষর করছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি। হুসাইন মালিক/কেএইচকে/এএসএম