মা হলো ধর্ষণের শিকার কিশোরী, তিন মাসেও আসামিকে ধরতে ব্যর্থ পুলিশ

2 min

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী (১৪) মা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল আটটার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় ওই কিশোরী। তবে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত যুবক মো. গোলাম কিবরিয়া (২৮) এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী গোলাম কিবরিয়া ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এই কাজে কিবরিয়াকে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে পারুল আক্তার (৪০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত ৫ এপ্রিল দুপুরে পারুল আক্তার কৌশলে কিশোরীকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে কিবরিয়ার সঙ্গে তালাবদ্ধ করে রাখে, যেখানে কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কিবরিয়া বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ পারুল আক্তারকে গ্রেফতার করলেও প্রধান আসামি কিবরিয়া এখনো পলাতক।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ওই কিশোরী স্বাভাবিক প্রসবে সন্তান জন্ম দিয়েছে। মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।

ওই কিশোরীর মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ভাড়ায় অন্যের অটোরিকশা চালায়। কিবরিয়া আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। পুলিশ এখনো কিবরিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলা তুলে নিতে তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি ভয়-ভীতি দেখায়। আমরা ন্যায় বিচার চাই।

স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতির অধিকার ও সুশাসন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক কোহিনূর বেগম বলেন, ধষণের শিকার শিশুটি এখন মা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছি। অভিযুক্ত কিবরিয়াকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। এখন ধর্ষণের শিকার শিশুটির গর্ভজাত সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে? আমরা চাই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনাসহ নবজাতক শিশুটি যেন পিতৃপরিচয় পায়।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত কিবরিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এইচ এম কামাল/কেএইচকে/এএসএম

No comments yet.

Back to feed