নড়াইলে ফসলের মাঠে সরিষা ফুলের হাসি

2 min

নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা সড়কে যেতেই চোখে পড়ে কাড়ার বিলের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ। সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রঙিন হয়ে উঠেছে ফসলের মাঠ। শীতের সোনাঝরা রোদে চিকচিক করছে হলদে বরণ সরিষা ক্ষেত। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ ফুলে ভরা গাছ। ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ফল পরিপাকের আভাস। তাতেই তৃপ্তির হাসি কৃষকের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। যা থেকে ১৯ হাজার ২৮৬ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ধান কাটার পর জমি পরিত্যক্ত থাকে। আর সেই জমিতে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে লাভের আশায় আছেন কৃষকেরা।

ধোপাখোলা গ্রামের সরিষা চাষি নিপেন কার্তিক রায় বলেন, ‌‘২ একর জমিতে চলতি মৌসুমে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করেছি। ফুলে ফুলে ভরে গেছে সরিষা ক্ষেত। গাছে পরিপক্ব হয়েছে সরিষা। সরিষা ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি।’

নুনখির গ্রামের সুজিত বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শে আমন ধানের সঙ্গে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে।’

আরও পড়ুন
ফুলকপির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি 
আগাম সবজি চাষে সফল জিসান, চলতি মৌসুমেই বিক্রি সাড়ে ৩১ লাখ 

মুশুড়িয়া গ্রামের সরিষা চাষি রিন্টু বিশ্বাস বলেন, ‘১ একর জমিতে এ বছর আমি সরিষা চাষ করেছি। ফুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে। আশা করছি বাড়ির তেলের চাহিদা পূরণ করে বাজারে সরিষা বিক্রি করতে পারবো।’

গোবরা কাকড়ার বিলে সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য আর মৌমাছির গুনগুনানি দেখতে বন্ধুদের নিয়ে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা মুঠোফোনে ধারণ করছেন হলদে বর্ণে সেজে ওঠা সরিষা ফুলের মাঠ।

বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা কৃপা বিশ্বাস বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, মাঠ ভরা সরিষা ফুল দেখে ভিডিও করতে এলাম। বন্ধুদের নিয়ে সরিষা বাগান দেখতে বেশ ভালো লাগছে।’

নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করে কৃষি অফিস থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেসব জমিতে দুটি ফসল হতো। সেসব জমিতে রিলে পদ্ধতিতে আমন ধানের সঙ্গে সরিষা চাষ করে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।’

হাফিজুল নিলু/এসইউ

No comments yet.

Back to feed